A SEA OF KNOWLEDGE, AN OCEAN OF WARMTH...
Saturday, September 26, 2020
Sunday, September 6, 2020
পশ্চিমবঙ্গে করোনা কি সত্যিই একটু বাগে এল? না কি ....?
১. কয়েকদিন ধরে খবরের কাগজে রিপোর্ট হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কিছু উন্নতি দেখা গেছে। বেশি সংখ্যায় লোকজন সুস্থ হয়ে ফিরছেন, আক্রান্তের মধ্যে মৃত'র হারও হ্রাস পেয়েছে, আক্রান্ত বৃদ্ধির হার কমেছে ইত্যাদি।
২. এত মাস নানা ভাবে সংগ্রাম আর ক্ষয়ক্ষতির পরে এ সব খবর শুনলে মনে-প্রাণে-কানে আরাম লাগে।হাসপাতালে ভর্তি বেশি শতাংশ রুগী সুস্থ হয়ে উঠছেন এতে কোন সন্দেহ নেই এবং আগেও বলেছি যে ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ কর্মী সবার প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে। তবে, যেহেতু ফেলুদা শিখিয়েছে যে সব কিছু ভেরিফাই করে নিতে হয়, তাই সরকারি স্বাস্থ বুলেটিন যে সব তথ্য আছে সেগুলির দিকে ছোট্ট করে নজর দেওয়া যাক।
৩. ছবিটা দেখুন। রাজ্যের ২৩টি জেলায় করোনার প্রাদূর্ভাব।যে জেলার যত গাঢ় রং সেখান থেকে তত বেশি আক্রান্ত। লক্ষ্য করুন শুরু থেকে গতকাল ৪ঠা সেপ্টেম্বর অবধি হিসেবে ধরলে কলকাতা + হাওড়া + দুই ২৪ পরগণা + হুগলি থেকে এসেছেন রাজ্যের টোটাল আক্রান্তের ৬৪%। তার মানে অতিমারীর শুরুর সাড়ে পাঁচ মাস পরেও এখনো covid-আক্রান্ত এসেছেন মূলত কলকাতা এবং তার সংলগ্ন ৪টি জেলা থেকে।
https://www.wbhealth.gov.in/pages/corona/bulletin
https://www.covid19india.org/
https://twitter.com/RijoMJohn/status/1301522646924894210/photo/1
https://twitter.com/RijoMJohn/status/1302209472731856899/photo/1
https://indianexpress.com/article/explained/india-coronavirus-covid-19-cases-deaths-numbers-explained-september-4-new-delhi-6582769/
https://www.sangbadpratidin.in/bengal/centre-is-not-going-to-give-free-rtpce-kit-to-wb-for-corona-testing/
Monday, August 24, 2020
১. প্রথমেই 'চাক দে'। আজ যখন এটা লিখছি নজরে এল ভারতে টোটাল আক্রান্ত তিরিশ লক্ষ ছাড়িয়ে গেল। তলার ছবিটা দেখুন। প্রথম দশ লক্ষ আক্রান্ত হতে লেগেছিল ১৬৮ দিন। সাড়ে পাঁচ মাস। ১০ থেকে ২০ লক্ষ হতে মাত্র ২১ দিন, আর ২০ থেকে ৩০ লক্ষ হতে ১৬ দিন। কি বুঝছেন?
![]() |
| ছবি ১: ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যার বৃদ্ধি'র হার খুবই চিন্তার কারণ । |
![]() |
| ছবি ২: করোনা আক্রান্ত'র তালিকায় সবচেয়ে ওপরে যে তিনটি দেশ। ২০শে অগস্ট অবধি প্রতি সপ্তাহে নতুন কেসের খতিয়ান। ভারতের অবস্থা উদ্বেগজনক। Our world in data site থেকে নেওয়া |
৩. অনেকেই হয়ত বলবেন - আরে আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। সেই তুলনায় কিছুই হয়নি । কিন্তু, এটা যে কোন সান্তনা নয়, সেটা চূড়ান্ত অজ্ঞ ছাড়া সবাই বুঝি। হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে covid হলেও প্রায় ৮৫% লোকের এমনিতেই সেরে যায়, এবং বাকি ১২-১৫% হাসপাতালে ভর্তি হলেও তাদের মধ্যে ~ ২% ছাড়া সবাই সুস্থ হয়ে ওঠেন। ঠিক। কিন্তু, যে জীবাণু এত ছোয়াঁচে সেই রোগের ২-৩% ও একটা বিশাল সংখ্যা এবং তার মানে হাজার হাজার হাসপাতাল বেড আর আইসিইউ লাগবে। এবং আমাদের মত দেশের দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা যে এর সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না সে কথা সবাই বুঝি। তাছাড়া জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি-মার্চ অন্তত দু মাসের প্রস্তুতি-পর্ব আমরা প্রায় পুরোই অবহেলা করেছি ; আজ সেই সময় তো আর ফিরবে না, তাই না?
৪. এটা শুধু কথার কথা নয়। করোনায় আক্রান্ত কতজন মারা গেছেন এই নিয়ে আমাদের বড়াই করার কিছু নেই। কারণ ইতালি বা আমেরিকার থেকে সেই সংখ্যা % কম হলেও, এই গ্রাফ দেখুন - প্রতিবেশী দেশরা অনেকেই কিন্তু আমাদের থেকে বেশি রুগীকে সুস্থ করে তুলেছেন। ১০০০ জন আক্রান্ত হলে ১৯ ভারতীয় মারা যাচ্ছেন, এবং সমসংখ্যক আক্রান্ত হলে প্রাণ হারাচ্ছেন ১৩ জন বাংলদেশী ও ৪ জন নেপালি।আর পাকিস্তান আর আফগানিস্তান আমাদের থেকে বেশি এটা নিশ্চয়ই গর্ব করার মত কিছু না।
![]() |
| ছবি ৩: ভারত ও প্রতিবেশী দেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে কত শতাংশ মারা গেছেন।পরিসংখ্যানবিদ রিজো জনের টুইট থেকে নেওয়া। |
![]() |
| ছবি ৪: ভারতের বিভিন্ন অংশে করোনা'র প্রাদুর্ভাব। |
(covid19india.org, যাঁরা এই অতিমারীতে অসাধারণ জন সংযোগের কাজ করেছেন, তাঁদের ওয়েবসাইট থেকে এই ছবিটা নেওয়া) .
৬. পরের ছবি নেওয়া হয়েছে পরিসংখ্যানবিদ রিজো জনের টুইট থেকে। ওঁর উপস্থাপনা আমার খুব ভাল লাগে, এবং তাই ছবিগুলো ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে নিয়েছি।
![]() |
| ছবি ৫: বিভিন্ন রাজ্যে দৈনিক পসিটিভ (২১শে অগস্ট) আর সাপ্তাহিক বৃদ্ধি% . পশ্চিমবঙ্গের স্থান তীরচিহ্ন দিয়ে দেখানো আছে। |
![]() |
| ছবি ৬: ভারতীয় রাজ্যদের covid সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপনার ওপরে স্ট্যানফোর্ড উনিভার্সিটির গবেষকদের তৈরী 'মার্কশীট' |
![]() |
| টেবিল ১ : প্রতি দুদি ন অন্তর পশ্চিমবঙ্গে RT-PCR আর Antigen (Ag) testর হিসেব। অগস্ট মাসে এন্টিজেন টেস্ট হচ্ছে ~৩৮% |
![]() |
| ছবি ৭ (ওপরে এবং নীচে ): ভারতের যে ৫০টি রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রিজো জনের টুইট থেকে নেওয়া। |
![]() |
| টেবিল ২: রাজ্যের ২৩টি জেলায় মোট আক্রান্তের %. |
![]() |
| ছবি ৮: পশ্চিমবঙ্গের করোনা আক্রান্ত মূল অঞ্চল |
![]() |
| ছবি ৯: মে মাস থেকে অগস্ট অবধি পশ্চিমবঙ্গের জেলায় করোনা পরিস্থিতি। |
Wednesday, August 12, 2020
কয়েকদিন ধরেই অবশ্য এরকম খবর বাজারে চলছিল। মানে ওরা টুকটুক করে news feelers ছাড়ছিল। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৪ জন আমায় এটা জিজ্ঞেস করেছেন। আমি বলেছি - না সম্ভব না, এবং এখনো বলছি সম্ভব না। মানে, বিজ্ঞানের ঠিকঠাক নিয়ম মেনে সম্ভব না, নিয়ম না মানলে, আমার-দেশ-আমার-ল্যাবরেটরি-আমার-যা-ইচ্ছে-করব করলে তো অন্য কথা - সে তো রাজনীতির ব্যাপার, শুধু তো বিজ্ঞান নয়। ' তবে, আজ পুটিন-দা সেটা নিজে ঘোষণা করার পরে ব্যাপারটা একটা আলাদা মাত্রা পেয়েছে বইকি।
তাহলে খবরটা ঠিক কি দেখে নেওয়া যাক। রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুটিন নিজে জানিয়েছেন যে মস্কোর বিখ্যাত গামালেয়া ইনস্টিটিউট অফ এপিডেমিওলোজি এন্ড মাইক্রোবায়োলোজি যে করোনাবিরোধী ভ্যাকসিন তৈরী করছিল সেগুলি এখন পরীক্ষিত, রোগ প্রতিরোধে সফল , নিরাপদ এবং তাই তিনি এটি অনুমোদন করছেন - এবার প্রোডাকশন অনেক বাড়ানো হবে , অক্টবর মাস নাগাদ এই টিকা রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারবেন, বিদেশেও রপ্তানি হবে। রুশ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন অন্তত ২০টি দেশ এই ভ্যাকসিন চেয়েছে।
ভ্যাকসিন যে নিরাপদ সেটা বোঝাবার জন্যে পুটিন জানিয়েছেন যে তাঁর নিজের মেয়ে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষার একজন ভলিন্টিয়ার হয়েছিলেন, এবং সে ভালোই আছে।
ভ্যাকসিনটা সম্পর্কে একটু বলে দিই।গবেষণার সময় এর কোড নাম ছিল Gam-Covid-Vac-Lyo। এখন পোশাকি নাম 'স্পুটনিক ভি'। দুটি সাধারণ ঠান্ডা লাগা (common cold) ভাইরাস Adenovirus Ad5 এবং Adenovirus Ad26র মধ্যে নতুন কোরোনাভাইরাসের জীন ঢুকিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরী করার চেষ্টা হয়েছে। গত মাসে যে দুটি ভ্যাকসিন নিয়ে খুব আলোচনা হল Oxford/AstraZeneca এবং Cansino তারাও মোটামুটি একই পদ্ধতিতে গবেষণা করেছেন।
তাহলে অসুবিধেটা কি? সমস্যা হল - যে কোন ভ্যাকসিন তৈরির কয়েকটা সুনির্দিষ্ট পর্যায় থাকে। যাকে বলা হয় phase 1 , phase 2, phase 3....সেগুলো ঠিকঠাক বিজ্ঞানসম্মত ভাবে অতিক্রান্ত করলে, এবং সব ফলাফল নিজে পর্যালোচনা করে সেই রেসাল্ট কোন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের জার্নালে পাঠাতে হয়। সেই জার্নালের সম্পাদক তখন ওই বিষয়ের অন্য এক্সপার্টদের অনুরোধ করেন, 'এই ফলাফল অমুক ল্যাবরেটরি থেকে এসেছে। আপনারা নিজে থেকে দেখুন যা পাঠিয়েছে সেসব ঠিক তো, বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে তো, হিসেবে সব মিলছে তো'; একে বলে peer review বা ওই বিষয়ের জ্ঞানী ব্যক্তিকে দিয়ে মূল্যায়ন করা। সাধারণত দুই বা তিনজন রিভিউ করেন, তাঁদের মতামত জানান। হয়ত বললেন, 'দেখেছি, ঠিক আছে। লজিক আছে, গুল-তাপ্পি মারেনি। আপনি নিশ্চিন্তে পাবলিশ করতে পারেন।', অথবা বললেন, 'না, আরো এক্সপেরিমেন্ট করতে হবে, রেসাল্ট আছে তবে আরো প্রমান চাই' . তখন সম্পাদক জানিয়ে দেবেন সেই কথা। মোদ্দা কথা - আপনি যে বৈজ্ঞানিক ভাবে ঠিক বলছেন তার প্রমান দিন, আরো অনেকে দেখবে, তবে সেটা গ্রহণ করা হবে। আপনি যতই বড় হনু হন শুধু মুখের কথা, বিশ্বাস অবিশ্বাস দিয়ে কাজ চলবে না, গবেষণার ফল দেখতে চাই। এই ভাবে সারা পৃথিবীতে সব বিজ্ঞানী কাজ করেন।
কিন্তু এত নতুন গবেষণা ? এক্সপার্ট জানছেন কি করে ঠিক কি ভুল? উপমা দিলে - গাভস্কারকে কি মাঠে নেমে টি-২০ খেলে বুঝতে হয় খেলাটার মূল গতিপ্রকৃতি, ঠিক ভুল কি হচ্ছে? না শ্রীকান্ত আচার্য যখন গানের কম্পিটিশনের জজ হন তখন উনি হিন্দি গান নিয়ে সুচিন্তিত মতামত দেন না? জ্ঞান, অভিজ্ঞতা থেকে ধাঁচ গতিপ্রকৃতি বোঝা যায়। এখানেও একই ব্যাপার।
তবে এতে কি ভুল হবার সম্ভবনা নেই? নিশ্চই আছে; বিজ্ঞানীরাও তো মানুষ। ভুল হতে পারে, পরে আরো ভাল গবেষণা হতে পারে এবং তখন আগের রেসাল্ট কিছুটা পাল্টে যেতে পারে, আবার 'তুই আমার পেপার দেখে দিস আমিও তোরটা নিয়ে বেশি চুলকোবো না' সেসব তো হতে পারে। তবে, ঠিক যেমন কেউ শুধু সিলেক্টরের সাপোর্ট পেয়ে বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ফুটবল খেলতে পারে না, এখানেও তাই। The scientific process is not 100% efficient, but it is certainly the most efficient of human processes. ভুল ভাল বকলে ধরা পড়বেই। বিজ্ঞানের এই পথ কঠোর ভাবে সত্যনিষ্ঠার পথ। এখনো।
ভ্যাকসিনের কথায় ফিরে আসি। ভ্যাকসিন গবেষণার ক্ষেত্রে তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ওই phase1-3র ফলাফল রিভিউআররা দেখতে চাইবেন। তবেই জার্নালে ছাপা হবে - ঠিক যেমন Oxford/AstraZeneca এবং Cansinoর ভ্যাকসিন গবেষণা বিখ্যাত ল্যানসেট পত্রিকায় হয়েছিল। প্রথম দুই পর্যায়ের রেসাল্ট সারা পৃথিবী দিয়ে পাশ করিয়ে তবে তাঁরা জানিয়েছেন যে তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে/হচ্ছে। গামালেয়া'র ক্ষেত্রে মুশকিল হচ্ছে সেই সব কোন তথ্য নেই।
রুশ রেসাল্ট যে নেই বলছি কেন?
১. কারন কোন জার্নালে বেরোয়নি, বেরোলে তো জানা যেত।
২. এই স্ক্রিনশট-টা দেখুন। বিখ্যাত বিজ্ঞান লেখক কার্ল জিমার গত কয়েক মাস ধরে নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্রে ভ্যাকসিন আপডেট দিচ্ছেন। কোন ভ্যাকসিন গবেষণার কি পর্যায়ে তা জানার জন্যে এ বেশ নির্ভরযোগ্য সোর্স। সেখানে কি লেখা আছে দেখুন।রুশ ভ্যাকসিন জুন মাসে মাত্র প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাসেও রুশ পার্লামেন্ট আশা করেছিল যে এই বছরের শেষ নাগাদ ভ্যাকসিন তৈরী শুরু হবে, কিন্তু ১০ই অগস্ট পুটিন জানিয়েছেন যে তিনি অনুমোদন করেছেন। জিমার জানাতে ভোলেননি যে গুরুত্বপূর্ন তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল এখনো বাকি। কি বুঝলেন?
৩. শুধু জিমার নন, কোন ভ্যাকসিন কি পর্যায়ে কাজ চলছে সেটা WHO একটি টেবিল করে বুঝিয়ে দেয়। এই যে, সেই টেবিলের কিছুটা অংশ কাট-পেস্ট করে দিলাম। দেখছেন , একই ব্যাপার। গামলায়ার টিকা phase 1/2র বেশি এগিয়েছে বলে দু দিন আগে পর্যন্ত কোন আপডেট নেই।
Summarize করলে কি দেখা যায়?
১. রুশ ভ্যাকসিন প্রথম দুই পর্যায় মাত্র শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন। তৃতীয় পর্যায় শেষ করা তো ভুলেই যান, সেটা যে ১২ই অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে তা তারা নিজেরাই জানিয়েছেন।
২। প্রথম পর্যায়ের ফলাফল তারা কোন জার্নালে প্রিভিউ করতে এখনো পাঠায়নি।
৩। মাত্র ৩৮জন ভলান্টিয়ার নিয়ে পরীক্ষা হয়েছে। সমপর্যায়ের অক্সফোর্ড/অস্ট্রজেনেকা এবং ক্যান সাইনো ভ্যাকসিন পরীক্ষা হয়েছিল ~১১০০ ও ~৬০০ জনের ওপর।
তাহলে কি দাঁড়াল ? শেষ হল কি হল না, রেসাল্ট সব ভাল করে দেখা হল কি না , লং টার্ম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি জানা হল না, বয়স্ক লোকজন, হার্টের রুগী, ডায়াবেটিক, যাঁদের প্রেসার কিডনি ইত্যাদির সমস্যা আছে তাদের টিকা দিলে কেমন থাকবেন জানা হল না, বাচ্ছাদের ওপর কি রেসাল্ট দেখা হল না! মাত্র ৩৮জন লোকের ওপর গবেষণা করে , phase3 না করে উনি 'এই দেখ আমার মেয়ে দিব্যি আছে' বলে গ্যাস মেরে দিলেন? আরে পুটিনের মেয়ে হোক কি ট্রাম্পের মেয়ে কি ওবামার - সেও তো একজন মাত্র মানুষ। তার বেশি তো কিছু না। আর একজন মানুষ, তিনি যেই হন, তিনি তো একা ২০০০ মানুষের phase 3র রেসাল্ট দিতে পারবেন না।তাই বলছি, ওটা জাস্ট সুড়সুড়ি। লোকে খাবে। সব রুশ বাবা-মা (এবং সারা পৃথিবীর বহু বাবা-মা - ওই যে ২০টা দেশে রুশ ভ্যাকসিন যাবে) ভাববেন 'আহা , নিজের মেয়েকে এগিয়ে দিয়েছে। তার মানে সব ঠিক আছে।' এটা ঠিক পুটিন বাবা হিসেবে যা করেছেন সেটা খারাপ বলছি না , এক দিক দিয়ে প্রশংসনীয় এবং অনেক বাবা মা'ই করবেন না। তবে সেটা তো আর সিরিয়াস বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা পাশ কাটাতে পারে না।এই কথাটা ভুললে চলবে না। ( আচ্ছা একটা কথা। পুটিনের মেয়ে। কোন মেয়ে? পুটিনের তো দুই কন্যা - মারিয়া আর য়েক্যাটরিনা। কোনজন টিকা নিয়েছেন সেটা সংবাদ সংস্থা বলেনি।)
তার মানে কি এই ভ্যাকসিন কাজ করবে না? না , এমন কোন কথা নেই। সত্যি বলতে কি, আজকের দিনে ভ্যাকসিন জিনিসটা বানানো যে খুব জটিল তা না। সেটা কতটা ভাল কাজ করবে (মানে সংক্রমণ আটকাবে) আর বাজে সাঈড এফেক্ট হবে কি না সেটাই ভাল করে পরীক্ষা করতে হয়। সেখানেই সময় লাগে। আজকের দিনে এমন কোন ভ্যাকসিন হয় না যেটা একদম ফেল মেরে যাবে, আর সবার মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে। আর গামালায়া তো বহুদিনের অভিজ্ঞতা-সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। সুতরাং, এত কিছু বলার পরে ও বলছি যে এই রুশ ভ্যাকসিন দুর্দান্ত না হলেও বেশ কিছুটা কাজ করবে। এবং খুব সম্ভবত ওরা টিকাকরণ আর তার ফলাফল কি হয় সেটা পাশাপাশি দেখতে থাকবেন। তবে, ওই যে - এইভাবে হড়বড় করা বিজ্ঞানসম্মত নয়।অনেকটা সাধারণ মানুষকে গিনিপিগ করার মত ।
পুতিন এটা কেন করলেন? একজন সাংবাদিক বন্ধুকে একটু আগে জিজ্ঞেস করলাম - পুটিনের ওপর কি রাশিয়ার ভেতরে খুব চাপ চলছে? লোকজন খুব বেশি অসুন্তুষ্ট। উনি বললেন (এবং আমিও মোটামুটি তাই জানি ) যে ছোটখাট সমস্যা আছে, রাশিয়ায় অনেক লোক করোনা -আক্রান্ত হয়েছেন, কিন্তু পুটিন রাজনৈতিক ভাবে খুবই পরাক্রমশালী। এমন কিছু চাপে নেই। তাহলে? তাহলে একটাই উত্তর হয়। উনি সারা পৃথিবীকে দেখাতে চাইছেন - দেখ, কি তোমরা অক্সফোর্ড অক্সফোর্ড , আমেরিকা আমেরিকা , চীন চীন করছ ? সবার আগে আমরা। আর সম্ভবত এই জন্যেই ভ্যাকসিনের নাম দিয়েছেন স্পুটনিক। মনে আছে নিশ্চই ১৯৫৭ সালে মহাকাশে যাত্রা করা প্রথম স্যাটেলাইট ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের 'স্পুটনিক'. আমাদের স্কুলের পরীক্ষায় সেই যে কোশ্চেন আসতো - 'নামকরণের স্বার্থকতা', সেই ব্যাপার।
আমাদের কি? তেমন কিছু মনে হয় না। তেমন কোন ডাইরেক্ট খবর নেই। তবে বহুদিনের বন্ধু দেশ রাশিয়ার থেকে কিছু ভ্যাকসিন হয়ত আসবে (এই তো কয়েকদিন আগে কিসব অস্ত্র কেনা হল, চীনের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে রাশিয়া মধ্যস্ততা করল। এইসব সম্পর্ক এভাবেই থাকে) তবে সে যাই হোক, যেটা নিয়ে একটা খেয়াল রাখতে হবে - আমাদের দেশে যা ভ্যাকসিন ছাড়া হবে সেটা যেন একদম নিয়ম মেনে ভাল করে পরীক্ষা করেই হয়। Phase 3তে যেন কোন তাড়াহুড়ো ঢিলেমি না থাকে। 'ফাটিয়ে দেব' 'সবাইকে দেখিয়ে দেব, তাক লাগিয়ে দেব' ওসব সিনেমায় হয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানে হলে কেলেঙ্কারির চান্স খুব বেশি। একেই গবেষণা অত্যন্ত দ্রুত চলছে। কিন্তু সব কিছুর একটা লিমিট আছে - একজন মহিলার একটি সন্তানকে জন্ম দিতে ৯ মাস লাগবে। সেটাই স্বাভাবিক, এবং আর কোন রাস্তা নেই। ওই কাজটা একসঙ্গে ৯জন মহিলা ১ মাস ১ মাস করে parallel করে সময় বাঁচাতে পারবেন না।
রেফারেন্স :
https://www.nytimes.com/interactive/2020/science/coronavirus-vaccine-tracker.html
https://www.who.int/publications/m/item/draft-landscape-of-covid-19-candidate-vaccines
https://clinicaltrials.gov/ct2/show/NCT04437875?term=vaccine&cond=covid-19&draw=4
https://tass.com/society/1188313
https://sputnikvaccine.com/about-vaccine/clinical-trials/
https://www.reuters.com/article/us-health-coronavirus-russia-vaccine-spu-idUSKCN2571FV?fbclid=IwAR0n_Cbnif6aLq1xDiyI11DyvpE4I9CAMnvpcmtztaqCon0tWCSet_Cl-aI
Tuesday, July 21, 2020
- Astrazeneca কোম্পানির সঙ্গে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়'র উদোগ্যে তৈরী কোরোনাভাইরাস-বিরোধী ChAdOx1 nCoV-2019 ভ্যাকসিন বেশ কিছুটা সাফল্য পেল।তাঁদের phase 1/2 পরীক্ষা সফল - বিখ্যাত আন্তর্জাতিক জার্নাল ল্যানসেটে বিজ্ঞানীরা এমনই জানিয়েছেন।
![]() |
| অক্সফোর্ড টিকার গবেষণাপত্রের প্রথম পাতার স্ক্রিনশট |
- পশ্চিম জগতের বেশি প্রচার এবং আমাদের স্বাভাবিক সাহেব-প্রীতি'র জন্যেই সম্ভবত অক্সফোর্ড টিকা নিয়ে এত বেশি কথাবার্তা হচ্ছে মিডিয়ায়। কিন্তু পাবলিক কি খাবে আর কি না খেতে পারে, trp বাড়বে কি বাড়বে না তা নিয়ে তো বিজ্ঞান চলে না।তাই একই দিনে একই জার্নালে প্রকাশিত একই ধরনের আরেকটি গবেষণাপত্রের কথা বলতেই হয়। চীনা কোম্পানি Cansino Biologics এবং চীনের একাডেমি অফ মিলিটারি সায়েন্স র উদোগ্যে তৈরী পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিনের phase 2র কাজ হয়েছে উহান প্রদেশে ; তার সাফল্যের কথা ও জানা গেল।
![]() |
| ক্যানসাইনো টিকার গবেষণাপত্রের প্রথম পাতার স্ক্রিনশট |
- দুই গবেষণার মূল লক্ষ্য দুটি - এক, পরীক্ষামূলক টিকা কি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নতুন কোরোনাভাইরাসকে আক্রমণ করতে সাহায্য করছে? দুই, টিকা ইনজেক্ট করার পরে কোন গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে কি?
- সাধারণত, টিকা তৈরী হয় নির্জীব জীবাণু বা জীবাণুর কোন বিশেষ প্রোটিন দিয়ে। আজ অবধি বাজারে আসা সব টিকা তাই হয়ে এসেছে। মলিকিউলার বায়োলজির যুগে সেই প্রচলিত চিন্তা ভাবনা কিছুটা পাল্টে গেছে। অক্সফোর্ড ও ক্যানসাইনো দুই টিকা এডিনোভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দিয়ে তৈরী। এই বিশেষ এডিনোভাইরাস আদতে শিম্পাঞ্জিদের দেহে অসুখ করায়। কিন্তু, টিকা বানাতে বিজ্ঞানীরা এই এডিনোভাইরাসের নিজস্ব কিছু জীন ছেঁটে ফেলেছেন আর ওর মধ্যে কোরোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জীন ঢুকিয়ে দিয়েছেন। ফলস্বরূপ, এ আর আমাদের শরীরে ঢুকে নিজের বংশ বৃদ্ধি করতে পারবে না, কিন্তু স্পাইক প্রোটিন তৈরী করতে পারবে। কি লাভ? ওই স্পাইক প্রোটিনকে চিনে রাখবে আমাদের শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা। আসল ভাইরাস যদি কোনোদিন ঢোকে তখন জটায়ুর ভাষায়, 'ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই ঠাঁই'! তবে বললেই তো হবে না। টেস্ট করতে হবে।
- অক্সফোর্ডে প্রথমে রিসাস বাঁদরদের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে ভাল আন্টিবডি তৈরী হচ্ছে। তাই এবার মানুষ। এপ্রিল আর মে মাসে লন্ডন, অক্সফোর্ড, সাদামটন, ব্রিস্টল আর ওয়েস্টন এই পাঁচ শহরের হসপিটালে সব মিলিয়ে ১০৭৭ স্বেচ্ছাসেবকের ওপরে পরীক্ষা করা হয়েছে। এঁদের বয়েস ১৮ থেকে ৫৫র মধ্যে (গড় বয়েস ৩৫), নারী পুরুষ ৫০: ৫০ এবং প্রায় সবাই শেতাঙ্গ।
- ৫৪৩জনকে এই নতুন ভ্যাকসিন ইনজেক্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে আবার প্রথম ইনজেকশন দেবার ২৮দিন পরে ওই ৫৪৩র মধ্যে থেকে বাছাই ১০জনকে একটা বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
- আর অন্য ৫৩৪জনকে একটি পুরোনো মেনিনজকক্কাস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই দ্বিতীয় দলকে (৫৩৪) বলে 'কন্ট্রোল গ্রূপ' . নতুন ভ্যাকসিনের প্রভাব ঠিক কি কি সেটা বুঝতে এই কন্ট্রোল গ্রূপ অত্যন্ত গুরুত্তপূর্ণ।
- পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ক্যানসাইনো'র বিজ্ঞানীরা মার্চ মাসে অল্প সংখ্যক লোকের ওপর প্রথম পর্যায়ের টেস্ট করেছিলেন। ফলাফল সন্তোষজনক হওয়াতে এবার ৫০০র ওপর সুস্থ ভলান্টিয়ারকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। এঁরা সবাই চীনা, উহান প্রদেশের বাসিন্দা, বয়েস ১৮র ওপরে এবং আগে এঁদের কারুর করোনা ইনফেকশন হয়নি।
- ভলান্টিয়ারদের তিন ভাগে ভাগ করে ২৫৩জনকে কম ডোজের টিকা, ১২৯জনকে বেশি ডোজের টিকা এবং ১২৬জনকে প্লাসিবো (এমন এক সলুশন যাতে নির্জীব ভাইরাস ছাড়া টিকার সব উপাদান আছে ) দেওয়া হয়।
- দুই ক্ষেত্রেই ১৪, ২৮ ও অন্যান্য দিনের মাথায় পরীক্ষা করা হয় শরীরে এন্টিবডি কেমন তৈরী হচ্ছে আর T cell activation হল কি না। কোন সাইড এফেক্ট হল কি না তাও নজরে রাখা হয়।
- দুক্ষেত্রেই দেখা গেছে ভ্যাকসিন দেবার পরে কারুর কোন গুরুতর বাজে সাইড এফেক্ট নেই।অক্সফোর্ড জানিয়েছে যে অনেকেরই গা-হাত-পা ব্যাথা হয়েছে, গা ম্যাজম্যাজ করেছে, জ্বর-জ্বর লেগেছে, মাথা ধরেছে , কিন্তু আর তেমন কিছুই না, আর সে সব প্যারাসিটামল দিলেই সেরে যায়। ক্যানসাইনো'র গবেষণা জানিয়েছে যে গা ব্যথা ছাড়া বেশি ডোজ টিকা দেওয়া কিছু ভলান্টিয়ারের জ্বর এসেছিল, তবে তা ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।
- টিকা দেবার পরে ELISA ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হয়েছে কোরোনাভাইরাস-বিরোধী এন্টিবডি তৈরী হল কি না। এবং আনন্দের কথা, দেখা গেছে সবারই ভাল এন্টিবডি তৈরী হচ্ছে। যাঁরা একবার ইনজেকশন পেয়েছিলেন তাঁদের শরীরে ভাল পরিমান এন্টিবডি তৈরী হয়েছে।আর যাঁরা বুস্টার পেয়েছিলেন তাঁদের ৫ গুন্ বেশি এন্টিবডি তৈরী হয়েছে। এই সাফল্য অনসীকার্য।
- দুই গবেষণাই অন্য একটি রেসাল্ট'র দিকে দৃষ্টিপাত করতে চেয়েছে। এন্টিবডি জিনিসটার গুরুত্ব অনেকেই জানেন, কিন্তু রোগ প্রতিরোধে এন্টিবডির দোসর T cellর কথা ডাক্তারি ও বৈজ্ঞানিক মহলেই সীমাবদ্ধ। অথচ, এন্টিবডি তৈরী আর T cell activation হল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার বাঁয়া-ডায়া ; আর যে কোন ভাইরাসকে পরাস্ত করতে তো T cell বিশেষ প্রয়োজনীয়।বেশি ডিটেলে যাব না, কিন্তু T cell -বিহীন রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা হল অনেকটা ড্রাইভার-ছাড়া গাড়ি (এইডস রোগে এই T cell ধ্বংস হয় , আর ফল কি নিশ্চয়ই সবাই জানেন).
- ELISPOT assay (কিছুটা ELISAর মত পরীক্ষা, কিন্তু তফাৎ আছে) করে ইংরেজ ও চীনা দুই গবেষক দল জানিয়েছেন যে এই নতুন ভ্যাকসিন T cellদেরও চাঙ্গা করে তুলছে। এটা একটা বড় খবর এবং এই গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বললে ভুল হবে না।
- ব্যাস ! মোটামুটি এই আর কি। অক্সফোর্ড দল নিজেরাই জানিয়েছেন যে ১০০০ জন সাদা চামড়ার ব্রিটিশ তো পরীক্ষার জন্যে যথেষ্ট নয়। আরো অনেক অনেক লোকের ওপর - বয়স্ক, কিছু অসুখ আগে থেকেই আছে , নানা দেশের নানা গোষ্ঠীর মানুষের ওপর এই সব পরীক্ষা আরো চলবে। সেই জন্যে এর মধ্যেই ইংল্যান্ড তো বটেই, ব্রাজিল আর দক্ষিণ আফ্রিকায় - দুটি দেশেই ভয়ানক মহামারী চলছে - কাজ শুরু হয়ে গেছে। আর প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর ঠিকঠাক হলে তখন বাচ্ছাদের ওপর টেস্ট করতে হবে।
- ক্যানসাইনো ও জানাচ্ছেন যে শুধু চীনা লোকের ওপর পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর পরীক্ষা প্রয়োজন এবং সেটা দীর্ঘকালীন হলেই তবে লঙ টার্ম ইমিউনিটি হল কি না , এবং অন্য কোন উপসর্গ দেখা দিল কি না বোঝা সম্ভব। সেই সব নিয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলে তবেই বাচ্ছাদের ওপরে পরীক্ষা হবে।
- শুধু তাই না, ক্যানসাইনো'র বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন যে যদি কোন মানুষের আগে কোন এডিনোভাইরাস সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে তাদের শরীরে এই ভ্যাকসিন কিছুটা কম শক্তিশালী। এন্টিবডি তৈরী হয়, কিন্তু এডিনোভাইরাস সংক্রমণ কোনোদিন হয়নি এমন লোকের থেকে কিছুটা কম। এই ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ কারন এডিনোভাইরাস সংক্রমণ আমাদের সবারই কম বেশি হয় (প্রচুর এডিনোভাইরাস আছে আকাশে বাতাসে - জ্বর গলা ব্যাথা বা খুশখুশ, পেট খারাপ কত অসুখ নানা এডিনোভাইরাস থেকে হয়, নতুন কিছু না। সম্ভবত সেই জন্যেই আমাদের শরীর আগে থেকেই এডিনোভাইরাসকে চিনে রেখেছে, এবং এবার এই টিকা দিতে তাকে বন্ধু-নয়-শত্রু ভেবে কিছুটা নিকেশ করে দিয়েছে। এই same-side goal ব্যাপারটা বিজ্ঞানীদের দেখতে হবে।
- নিজেদের ধান্দায় আসি - ভ্যাকসিন কবে পাব? এ বছরের শেষে হয়ত কিছু অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন তৈরী হয়ে ডাক্তার, স্বাস্থ কর্মী এঁদের দেওয়া হবে।তবে, সবার জন্যে আসতে আসতে সামনের বছর। পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ডের ভারতীয় পার্টনার। এর মধ্যেই কাজ শুরু করেছেন।ক্যানসাইনো'র টিকা সম্ভবত তাই করবে, তবে চীনা সেনাবাহিনী এই ভ্যাক্সিনকে 'বিশেষ প্রয়োজনীয় ওষুধ' নাম দিয়েছে, এবং হয়ত এ বছরেই চীনা সৈন্যদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে।
- এছাড়া, ব্যবসারও তো ব্যাপার। আজকেই যেমন Astrazeneca আর Modernaর শেয়ার উঠল- নামল।
- মনে রাখা আবশ্যক, এখনো কিন্তু কেউ এই সব টিকা দেওয়া ভলান্টিয়ারদের শরীরে আসল কোরোনাভাইরাস দিয়ে দেখেননি আসল রোগ প্রতিরোধ হয় কি না। সেটা বেশ আলাদা ধরণের challenger পরীক্ষা এবং করা নিয়ে অনেক আইনত এবং নীতিগত বাধা আছে। দেখা যাক কি হয়। কিন্তু সময় তো লাগবেই। বিজ্ঞান তো ম্যাজিকও নয়, তুকতাকও নয়; হড়বড় করলে হিতে বিপরীত হবে ।
https://www.thelancet.com/journals/lancet/article/PIIS0140-6736(20)31605-6/fulltext
https://www.bbc.com/news/uk-53469839?fbclid=IwAR3IhSimn-C70kQdkPrvOrpWRnJDwaPqBlFRdegEqp6zBLwA8H7HwnM97ss
https://journosdiary.com/2020/07/20/oxford-coronavirus-vaccine-safe-immunogenic-preliminary-phase1-phase2-trial/?fbclid=IwAR0ZqGVL-SVxs-LHTqJH8bTbI2PrL-tLH_No6AnQR7CfbYM0D4hxt55sLLo
https://journosdiary.com/2020/07/20/phase-2-trial-adenovirus-covid-19-vaccine-ad5-ncov-found-safe-immunogenic/?fbclid=IwAR2whEUJFrLNARx-igPQg0cUjwlGpcIjop8a36FxnkUBleWN_lIBI_CDjnE
https://www.livemint.com/news/world/cansino-coronavirus-vaccine-shows-immune-response-in-human-trial-11595290017877.html
https://www.oxfordstudent.com/2020/05/05/exclusive-100-alive-dr-elisa-granato-first-vaccine-recipient-shares-her-experience/
Thursday, July 16, 2020
১. মার্কিন কোম্পানি Modernaর করোনা-বিরোধী টিকা'র প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা ( Phase 1 trial) সফল হয়েছে। বিখ্যাত গবেষণা পত্রিকা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা এই কথা জানিয়েছেন। মে মাসে এই সংস্থা একদম প্রাথমিক সাফল্যের কথা জানিয়েছিল। এবার জানা গেল যে Phase 1 গবেষণায় ৪৫ জন সুস্থ ভলান্টিয়ারকে দু'বার পরীক্ষামূলক টিকা ইনজেক্ট করা হয়। ফলাফল যাতে ভালভাবে বিশ্লেষণ করা যায় সেই জন্যে টিকার পরিমাণেও তফাৎ রাখা হয়েছিল। প্রথমবার ভ্যাকসিন দেবার ২৮ দিন পরে দ্বিতীয়বার দেওয়া হয় এবং এখনো পর্যন্ত প্রায় দুমাস ধরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে ভলান্টিয়ারদের রক্তে কোরোনাভাইরাস-বিরোধী এন্টিবডি ভালো তৈরী হয়েছে। এও উল্লেখযোগ্য যে হালকা মাথাব্যথা, গা- ম্যাজম্যাজ, ক্লান্তি ছাড়া আর কোন বড় সাইড এফেক্ট দেখা যায়নি, এবং তাই বিজ্ঞানীরা এবার পরের পর্যায়ে আরো অনেক লোকের ওপরে টিকা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।
সাধারণত ভ্যাকসিন তৈরী হয় জীবাণুকে নির্জীব করে বা তার কোন একটি প্রোটিনকে পরিশোধিত করে। আজ অবধি যত টিকা আছে সবই মোটামুটি এইভাবে তৈরী। তবে , বায়োটেকনোলজির যুগে Moderna এই ভ্যাকসিন নতুন প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী হয়েছে। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে RNA ভ্যাকসিন।
স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে আমরা পড়েছি যে আমাদের সবার কোষের নিউক্লিয়াসে যে ক্রোমোসোম আছে তা DNA দিয়ে তৈরী এবং তার ওপর পরপর সাজানো আছে আমাদের জিনগুলি (genes)। এক একটি জীন আমাদের শরীরের এক একটি প্রোটিন তৈরির নির্দেশাবলী বা code বহন করে। যখন যে প্রোটিন'র দরকার পড়ে সেই জীন তখন active হয়ে ওঠে, সেই জীন'র DNA কপি করে তৈরী হয় একটা RNA আর সেই RNA ব্যবহার করে কোষ সেই প্রোটিনটি তৈরী করে। আজ হাই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা জানে যে মলিকিউলার বায়োলজির পরিভাষায় DNA-থেকে-RNA-থেকে-protein পথ'র নাম Central Dogma of Molecular Biology. এই হল পৃথিবীর সব প্রাণীর সব কোষের অন্যতম বড় কাজ।
Modernaর ভ্যাকসিনে নির্জীব করা কোরোনাভাইরাস নেই, করোনার কোন প্রোটিন নেই। কি আছে? করোনার স্পাইক প্রোটিন ( ছবিতে গোলাকার ভাইরাস থেকে পায়ের মত বেরিয়ে থাকে দেখেছেন নিশ্চয়ই ) তৈরী করার জন্যে নির্দিষ্ট RNA আছে। এই RNAকে ইঞ্জেক্ট করে দেওয়া হয়েছে মানব দেহে। শরীরের কোষে ঢুকে পড়লে এই ভাইরাল RNA থেকে তৈরী হয় স্পাইক প্রোটিন, এবং সেই স্পাইক প্রোটিনকে চিনে রাখে আমাদের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা (immune system )। প্রোটিন বানাবার কাজ শরীরকে আউটসোর্স করে দেওয়া হয়েছে বলতে পারেন। শরীর নিজেই ভাইরাল প্রোটিন বানাবে আর বানানো হয়ে গেলে শরীরই তাকে চিনে রাখবে। আশা করা যায় যে আসল ভাইরাস যদি কোনোদিন ঢোকে তাকে এবার দ্রুত চেনা যাবে এবং বধ করা যাবে - ঠিক অন্য টীকায় যেমন হয়।
RNA ভ্যাকসিন তৈরী করা সোজা এবং এর জন্যে আলাদা করে জীবাণু বা তার প্রোটিন বানাতে হয় না বলে বিজ্ঞানীদের আশা ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন তৈরীর কাজ আরো দ্রুত হবে। অবশ্য, এ একদম নতুন টেকনোলজি ; আগে কখনো ব্যবহৃত হয়নি। তাই ভাল রকম পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামনে বছরের গোড়ায় বাজারে টিকা ছাড়তে পারবে বলে Moderna জানিয়েছে (দাম কত করবে ?? জানি না!) ; ব্যবসা ও বিজ্ঞানের সাফল্য দুই লক্ষ্য থাকলেও ফালতু লোক-দেখানো তাড়াহুড়োর কোন জায়গা নেই।
আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন 'প্রতিযোগিতায়' অবশ্য এখনো এগিয়ে চীনের কোম্পানি CanSino Biologics. চীনের একাডেমি অফ মিলিটারি মেডিক্যাল সায়েন্সর সঙ্গে একযোগে তাঁদের ভ্যাকসিন phase II পর্যায়ে পেরিয়ে গেছে। প্রজেক্টের সাফল্য দেখে চীনা সেনাবাহিনী একে 'জরুরি ওষুধ' বলে অভিহিত করেছেন এবং সম্ভবত এ বছরের শেষে চীনের সৈন্যরা এই টিকা ব্যবহার করতে পারবেন।
https://www.nejm.org/doi/full/10.1056/NEJMoa2022483?fbclid=IwAR1hGII8NpMaWWS1JuCtGbbUYtNC18WC7A6IeKJm6nnA_UJBo-luO_ID9lM
--------------- ----------------------------------------- -----------------
২. বাজারে আসা অনেক স্যানিটাইজার যে ভাল নয়, বরং ক্ষতিকারক হতে পারে এ কথা পঞ্জাবের Food and Drug Administration দপ্তর জানিয়েছে। Caravan পত্রিকা জানাচ্ছে যে জুলাই মাসের গোড়ায় প্রকাশিত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ৬৩টি স্যানিটাইজার পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৬টি জীবাণু মারতে কার্যকর হবে না, এবং ৪টিতে বিষাক্ত মিথানল পাওয়া গেছে!
এতে খুব একটা অবাক হবার কিছু নেই। প্রচুর স্যানিটাইজারে বাজার ছেয়ে গেছে সবাই দেখতে পারছেন। আমাদের দেশে যে সব কিছুর কোয়ালিটি কন্ট্রোল হবে না সেটা বলে দিতে হয় না। আর যে দেশে বিষাক্ত মদ খেয়ে প্রতি বছর বহু মানুষ প্রাণ হারান সে দেশে কেউ কেউ সানিটাইজারে ইথানলের জায়গায় মিথানল মেশাবেন তাতে খুব অবাক হবার কিছু আছে কি? তাহলে উপায়? ভাল কোম্পানির স্যানিটাইজার দেখে শুনে কিনবেন। আর তাছাড়া, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া তো সবচেয়ে ভাল।আজ অবধি এমন কোন স্যানিটাইজার বেরোয়নি যা কষ কষ করে সাবান জল দিয়ে হাত ধোয়ার থেকে ভাল।
https://caravanmagazine.in/health/with-no-government-oversight-profiteering-industries-flood-indian-markets-with-toxic-sanitisers
------------------------------------- -----------------------------------------
৩. একটা ছোট্ট কথা বলে শেষ করি।সবাই তো ভ্যাকসিন ওষুধ ভেন্টিলেটর নিয়ে ভেবে ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না।
কিন্তু, এ প্রসঙ্গে শারীরবিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের গোড়ার একটা কথা মনে করিয়ে দিই।
শরীরে জীবাণু ঢুকলে তাকে মারতে কোষদের (যেমন রক্তের শ্বেতকণিকা) কি লাগে? এনার্জি।
জীবাণুর বিরুদ্ধে আন্টিবডি তৈরী করতে কি লাগে? এনার্জি।
টিকা নিলে যাতে সেটা জীবাণুকে ঠিকঠাক চিনতে সাহায্য করে তার জন্যে কি লাগে? এনার্জি।
ওষুধ শরীরে ঢুকলে তাকে ঠিকঠাক কোষে পৌঁছে দিতে এবং অনেক সময় সেই ওষুধকে active করতে কি লাগে? এনার্জি। ... ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই এনার্জি শরীর পায় কোথা থেকে? খাবার থেকে। পুষ্টিকর পর্যাপ্ত খাবার।
তাই এত এত ওষুধ/ভ্যাকসিন/ হাসপাতাল বিশেষ কাজে আসবে না একটি জিনিস কমতি পড়লে- পুষ্টিকর পর্যাপ্ত খাবার।মনে রাখতেই হবে, টিকা বা ওষুধ শরীরকে সাহায্য করে জীবাণুকে পরাস্ত করতে, কিন্তু আসল লড়াই লড়ে শরীর নিজে। শরীর নিজেই সৈন্য, টিকা বা ওষুধ তার হাতের হাতিয়ার। শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা'র মুলে হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমানে কার্বোহাইড্রেট + প্রোটিন + ফ্যাট + ভিটামিন + জল + ইত্যাদি নিয়ে খাওয়া। ওই জ্বালানি না পেলে ইঞ্জিন চলবে না। তাই আজ কোটি কোটি ভারতবাসী যদি আধপেটা খেয়ে থাকেন তাহলে রোগ অনেক দ্রুত ছড়াবে। দুর্বল, অভুক্ত শরীরে অনেক সহজেই বাসা বাঁধে ভাইরাস, ছড়িয়েও পড়ে।
ভাল থাকবেন। সাবধানে থাকবেন কিন্তু আতঙ্কিত হবেন না, তাতে কোন এক্সট্রা লাভ নেই ।
মাস্ক ভাল করে পরবেন।
স্কুল খুলুক, সঙ্গে হাওয়া বাতাস খেলুক ক্লাসঘরে ('এই সময়' সংবাদপত্রে প্রবন্ধ - ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১) সোজাসাপ্টা অপ্রিয় সত...
-
অবশেষে প্রকাশিত হল ইংল্যান্ডের সেই নতুন টাকা। কিন্তু তাতে জগদীশ চন্দ্র বসু'র ছবি আছে কি ? ..... দু বছরের বেশি ধরে বাঙালি একে অপরকে ফরওয়া...
-
বাঘ, পঙ্গোলিন আর করোনা'র গল্প (করোনা বিজ্ঞানের খুচরো খবর -১) আজকাল করোনা ছাড়া খবর নেই। এটা একটু বিরক্তিকর বোকাবোকা হলেও ...
-
প্রকৃতির পেনড্রাইভ (করোনা বিজ্ঞানের খুচরো খবর -২) ''কানন-দি, ওই বাইরে থেকে প্যাকেটটা এনে টেবিলের যেখানে রাখলে ওই জায়গাটা স...
































